ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরে মাঝরাতে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হাত-পা বেঁধে এক সন্তানের জননী এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) সেহরীর সময়ে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দক্ষিণ টুমচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার সেহরির সময়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসতঘরের অদূরে বাথরুমে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগে দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যান। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা ফেলে রেখে চলে যান। জ্ঞান ফেরার পর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করা একাধিক নারী জানান, ভোররাতে সেহরির খাওয়ার কিছু সময় পর ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে এগিয়ে যান তারা। এ সময় বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে তার ননদের জামাই জামালসহ অপরিচিত চার-পাঁচজন মিলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেছে বলে ভুক্তভোগী ওই নারী তাদেরকে জানান।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার বাড়ি সিলেট জেলায়। ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দুবছর আগে তার বিয়ে হয়। এরইমধ্যে এক সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের সংসার। বিয়ের কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামে ননদের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে ননদের জামাই জামাল আহমেদ তার সঙ্গে নোংরা ও বাজে প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিবাদ চলে আসার কয়েক মাস পর জামাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিচার দাবি করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও নিজে আওয়ামী লীগের নেতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাড় পেয়ে যায় জামাল। পূর্বের ক্ষোভ থেকে বন্ধুদের সাথে নিয়ে গণধর্ষণের এই ঘটনাটিও ননদের জামাই জামাল ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তার।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গণধর্ষণ নয়। ভুক্তভোগীকে তার ননদের জামাই  জামাল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এঘটনায় আশরাফ ও নুর ইসলাম নামের দুইজন ধর্ষণে তাকে সহযোগিতা করেছে। ভুক্তভোগী নারী  জামালকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরে মাঝরাতে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ!

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হাত-পা বেঁধে এক সন্তানের জননী এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) সেহরীর সময়ে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দক্ষিণ টুমচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার সেহরির সময়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসতঘরের অদূরে বাথরুমে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগে দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যান। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা ফেলে রেখে চলে যান। জ্ঞান ফেরার পর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করা একাধিক নারী জানান, ভোররাতে সেহরির খাওয়ার কিছু সময় পর ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে এগিয়ে যান তারা। এ সময় বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে তার ননদের জামাই জামালসহ অপরিচিত চার-পাঁচজন মিলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেছে বলে ভুক্তভোগী ওই নারী তাদেরকে জানান।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার বাড়ি সিলেট জেলায়। ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দুবছর আগে তার বিয়ে হয়। এরইমধ্যে এক সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের সংসার। বিয়ের কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামে ননদের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে ননদের জামাই জামাল আহমেদ তার সঙ্গে নোংরা ও বাজে প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিবাদ চলে আসার কয়েক মাস পর জামাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিচার দাবি করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও নিজে আওয়ামী লীগের নেতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাড় পেয়ে যায় জামাল। পূর্বের ক্ষোভ থেকে বন্ধুদের সাথে নিয়ে গণধর্ষণের এই ঘটনাটিও ননদের জামাই জামাল ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তার।

রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গণধর্ষণ নয়। ভুক্তভোগীকে তার ননদের জামাই  জামাল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এঘটনায় আশরাফ ও নুর ইসলাম নামের দুইজন ধর্ষণে তাকে সহযোগিতা করেছে। ভুক্তভোগী নারী  জামালকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।