ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নির্বাচনী মাঠে মানুষের হৃদয় ছোঁয়ার প্রচেষ্টা
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩৩১ বার পড়া হয়েছে

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নির্বাচনী মাঠে মানুষের হৃদয় ছোঁয়ার প্রচেষ্টা
কবির আহমদ ফারুক
লক্ষ্মীপুর সদর-৩-এর শীতল বিকেল। গাঁয়ের পথগুলো তখনো ভিজে সাম্প্রতিক কুয়াশার ছোঁয়ায়, আর চারদিকে ধুলোমাখা বাজারগুলোর পরিচিত কোলাহল। এই ভেজা-ধুলিমাখা পরিবেশের মধ্যেই দেখা মেলে পরিচিত মুখ-ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। Dr. Rezaul Karim
সাবেক ছাত্র নেতা, বর্তমানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী।
তাকে কাছে থেকে দেখলে রাজনীতির প্রচলিত দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। কারণ তার প্রচারণা শুধু ভোট চাওয়ার জন্য নয়-বরং মানুষের কাছে যাওয়া, তাদের গল্প শোনা এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার এক গভীর মানবিক যাত্রা।
কথার চেয়ে শোনার অভ্যাস
তার প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে- তিনি বলেন কম, শোনেন বেশি।
কেউ চাকরির সংকটের কথা বলেন,
কেউ চিকিৎসা সেবার অভাব তুলে ধরেন,
কেউ আবার গ্রামের রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থার কথা জানায়।
প্রতিটি কথা তিনি মন দিয়ে শোনেন।
মাথা হালকা নেড়ে বলেন-
‘মানুষের কষ্টটাই আসল দলিল। রাজনীতি তারই সমাধানের পথ।’
তার চোখের গভীরতা, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সহজাত ক্ষমতা এবং কথার কোমলতা-সব মিলিয়ে তাকে আরও মানবিক, আরও সহজ-গ্রহণযোগ্য করে তুলে।
এক প্রতীকের চারপাশে অনুভূতির জাল
তার দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা।
প্রতীকটি ঘিরে মানুষের মনে একটি বিশেষ অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
তিনি সেটিকে শান্ত, বিনয়ী কণ্ঠে ব্যাখ্যা করেন-
‘দাঁড়িপাল্লা ন্যায়ের প্রতীক। ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমার পথচলা।’
তার উচ্চারণে নেই কোনো তীব্র উন্মাদনা বা শোরগোল।
বরং আছে এক ধরনের নীরব শক্তি-যেখানে স্লোগানের চেয়ে গুরুত্ব পায় আচরণ, চিৎকারের চেয়ে মূল্য পায় মন।
পরিবর্তনের স্বপ্ন ও সেবার পথচলা
মানুষের মনোযোগ কাড়ছে তার বারবার বলা একটি বাক্য-
‘ক্ষমতা এলে শাসন নয়, সেবা চাই।’
প্রতিটি উঠোন বৈঠকে, প্রতিটি সফরে তিনি এই কথাই বলেন।
মানুষের চোখে চোখ রেখে যোগ করেন-
‘মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। রাজনীতি মানে সেবা-এটাই শেখার প্রথম পাঠ।’
তার সরল, মৃদু কণ্ঠে বলা এই বাক্যগুলোতে যেন লুকিয়ে থাকে তার রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি।
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে এক শান্ত মুখ
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি যখন উত্তেজনা, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিপূর্ণ, তখন ড. রেজাউল করিম এক ব্যতিক্রমী উপস্থিতি।
তিনি তাড়াহুড়া করেন না, উচ্চকণ্ঠের স্লোগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন না।
বরং মানুষের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে গল্প শোনেন, সমস্যার নোট নেন, নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করেন।
এ যেন আড়ম্বরহীন, সরল এবং মানবিক রাজনীতির এক অন্যরকম প্রতিচ্ছবি।
লক্ষ্মীপুর সদর-৩ এর মাটিতে বাড়তে থাকা প্রত্যাশা
গ্রামের চায়ের দোকানে প্রশ্ন করতেই এক তরুণ বলল-
‘মানুষ হিসেবে ভালো। কথা কম, কাজের প্রতিশ্রুতি বেশি।’
আরেকজন বললেন-
‘পরিবর্তন চাই। নতুন মুখে মানুষের আস্থা আছে।’
এসব কথার ভেতরেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়-
ড. রেজাউল করিম ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে মানুষের হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন।
শেষ কথা
লক্ষ্মীপুর সদর-৩-এর রাজনৈতিক মাঠে তার মানবিক উপস্থিতি আজ সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিগোচর।
নির্বাচনের ফল যাই হোক-
মানুষের কথা শুনে, মানুষের ভিড়ে মিশে, সেবার ভাষায় রাজনীতি ব্যাখ্যা করে তিনি প্রমাণ করছেন-
একজন প্রার্থীর মানবিকতা সত্যিই মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারে।
এ কারণেই তিনি হয়ে উঠছেন-
লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে এক শান্ত, নরম ভাষার ভিন্নমাত্রার প্রতিচ্ছবি।







