জান্নাতুল ফেরদৌস, বিশেষ প্রতিনিধি
বর্তমানে হ্যান্ড পেইন্টের পোষাকের জনপ্রিয়তা শীর্ষে।
একটা সময় ছিল যখন পোশাকে হাতের কাজ বলতে শুধু সুঁই-সুতার নকশাকে বোঝানো হতো। তবে এখন শুধু সুঁইয়ের খোঁচায় আর সুতার রঙয়ে বোনা ফুল অথবা এমব্রয়ডারী করা পাখি কিংবা ব্লকের বাহারি নকশা করা শাড়ি নয়, কাপড়ের সৌন্দর্য বর্ধণ করতে রং তুলির জনপ্রিয়তাও কম নয়।
শিল্পীর রং আর তুলির স্পর্শে বর্ণিল হয়ে ওঠে শরীরে জড়িয়ে থাকা পোষাক। শিল্পীর আঙুল আর তুলির প্রতিটি আঁচড় নিছক কোনো দাগ কেটে যাওয়া নয় বরং তাতে মিশে থাকে ধৈর্য, শ্রম, ভালোবাস, স্বপ্ন ও মায়া।
পেইন্ট পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ছোট, বড়, বয়স্ক সবাই যেন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে শিল্পীর হাতে ছোয়ায় তৈরি চিত্র কর্ম দেখে।
বর্তমান সময়ে পোশাকের তালিকায় বিশেষ স্হান দখল করে আছে হ্যান্ড পেইন্ট ড্রেস। মেয়েদের হিজাব থেকে শুরু করে কুর্তি, ওড়না এবং শাড়ি তে রং তুলির কারুকার্য চোখে পড়ার মতো। বাদ যায়নি পুরুষদের পোশাকও। হ্যান্ড পেইন্ট জায়গা করে নিয়েছে ছেলেদের টি-শার্ট, পান্জাবিতেও।
এছাড়াও চারদিকে মাস্ক এর ব্যবহার যেমনি বেড়েছে তেমনি মাস্কের মধ্যেও রং-বে রঙের হাতে আঁকা পেইন্টিংও বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
হ্যান্ড মানে হাত আর পেইন্ট মানে রঙ।
আমার মতে, শব্দ এখানে দুটি হলেও মূলত তৃতীয় আর একটি বস্তুকে কল্পনা করে নিতে হবে, Paint Brush অর্থাৎ তুলি। এ তিনটির সমন্বয়ে যে কাজ সম্পন্ন হয় তাকেই হ্যান্ড পেইন্ট বলে।
রং তুলির সাহায্যে কাপড়/ক্যানভাস/ কাঠ/ যেকোনো নির্দিষ্ট জিনিসের উপর হাতের সাহায্যে আঁকাআকি করাই প্রধান কাজ।
প্রথমেই বলে নেই হ্যান্ড পেইন্টিং করতে চাইলে অবশ্যই আপনার আর্টের উপর দক্ষতা থাকতে হবে।
দ্বিতীয় আপনাকে অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে। পেইন্টের কাজ মানেই অনেক সময় নিয়ে নিখুঁত ভাবে কাজটি আপনাকে শেষ করতে হবে। এরজন্য অনেক ধৈর্য থাকতে হবে
ডিজাইনের উপর নির্ভর করে চিকন তুলি অথবা মোটা তুলি দরকার হবে। সূক্ষ্ম ডিজাইন করার সময় চিকন তুলি এবং চওড়া ডিজাইনের ক্ষেত্রে মোটা তুলির ব্যবহার হয়।
হ্যান্ড পেইন্টিং এর জন্য ২ ধরনের রং পাওয়া যায়
কাপড়ে পেইন্ট করার জন্য ভালো ফ্রেম অবশ্যই দরকার। ফ্রেম ছাড়া কাপড়ের উপর পেইন্ট করা অনেক কষ্টকর।
রঙ ২ ধরনের
অ্যাক্রেলিক ও এক্রামিন
এক্রামিন রং আবার ২ ধরনের পাওয়া যায়……
১। রেডি এক্রামিন
২। ডিরেক্ট/র এক্রামিন কালার /ব্লকের রং বললেও হবে
ব্লকের রং/ র কালারকে কাপড় ভেদে ক্যামিকেল মিশিয়ে হ্যান্ড পেইন্টের জন্য প্রস্তুত করতে হয়।
ব্লকের কাজে যে রং ক্যামিকেল গুলো ব্যবহার করা হয় সে গুলোই মূলত হ্যান্ড পেইন্টিং করার জন্যও ব্যবহৃত। এর মধ্যে রয়েছে বাইন্ডার, এনকে, হোয়াইট পেস্ট, নিউটেক্স, এপ্রিটন, ওক্সাল, M-60, F-50, ইত্যাদি…… & এক্রামিন কালার/ র কালার।
চলুন জেনে আশি ক্যামিকেল এর কাজ গুলো।
বাইন্ডারঃ
এটি মূলত এক প্রকার আঠা। যা রং কে দীর্ঘ স্থায়ী করতে সহায়তা করে। বাইন্ডারের ঘনত্ব কিছুটা ভাতের মারের মত হয়ে থাকে।
এনকেঃ
এনকে এর ঘনত্ব বাইন্ডারের থেকে কিছুটা পাতলা। এটি ব্যবহারে রং এর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে৷ কোনো রং যদি বেশি ভারি হয়ে থাকে তাহলে কিছু পরিমান এন কে মিশিয়ে রং পাতলা করা যায়। এতে কাজ গুলো অনেক সফট দেখায়।
হোয়াইট_পেস্টঃ