লক্ষ্মীপুরে তেল পাম্পে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে শতাধিক বাইকার চালক
হাবিব বিন আনোয়ার
লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের দক্ষিণ তেহমুনী এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স জনতা ফিলিং স্টেশন’-এ তেল বিক্রি নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই পাম্পে তালা ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষ সটকে পড়ায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে এই পাম্পটিতে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি রহস্যজনকভাবে বন্ধ ছিল। তবে গত রোববার হঠাৎ করেই তারা তেল বিক্রি শুরু করে। ওই দিন সন্ধ্যায় তেল নিতে আসা গ্রাহকদের পাম্প ম্যানেজার মো. রাসেল জানান, পরদিন অর্থাৎ সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে পুনরায় তেল দেওয়া হবে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে আজ সকাল ৯টা থেকেই পাম্প প্রাঙ্গণে ভিড় করতে থাকেন শত শত আরোহী। কিন্তু বেলা ১০টার দিকে হঠাৎ করেই পাম্পের ম্যানেজার ও কর্মচারীরা অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে পাম্প ছেড়ে চলে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস ঘটনাস্থলে অভিযানে যান। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেভাগেই পাম্পের সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দেওয়ায় কাউকে আটক বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে অভিযান শেষে ইউএনও জানান, ”আমরা খবর পেয়ে দ্রুত পাম্পটি পরিদর্শন করি। তবে আমাদের পৌঁছানোর আগেই কর্তৃপক্ষ পাম্প তালাবদ্ধ করে চলে গেছে। সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাম্পের মালিক বা ম্যানেজার ফিরে আসামাত্রই যেন আমাদের অবহিত করা হয়। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহীরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্প কর্তৃপক্ষ আমাদের সময় দিয়ে এখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। অথচ এখন তেল না দিয়েই তারা পালিয়েছে। এটি গ্রাহকদের সাথে চরম প্রতারণা।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেসার্স জনতা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ম্যানেজার রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তেলের সংকট নাকি অন্য কোনো কারণে তারা পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।