লক্ষ্মীপুর জেলায় নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন এলাকাতেই স্থাপন করার দাবিতে আজ শনিবার এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০ ঘটিকায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের একমাত্র দাবি উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু বা প্রধান ভবনটি কোনোভাবেই চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাইরে, বিশেষ করে ‘বটতলী’ এলাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। এটি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ভেতরেই স্থাপন করতে হবে।
ইউনিয়নের স্বপক্ষে আন্দোলনকারীদের যুক্তি মানববন্ধনে বক্তব্য রাখার সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নাগরিকরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই উপজেলা ভবন রাখার পক্ষে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন:
বিদ্যমান অবকাঠামো: একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলার জন্য যেসব নাগরিক সুবিধা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে আগে থেকেই বিদ্যমান।
নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা: এই এলাকায় চন্দ্রগঞ্জ থানা এবং চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানা—উভয় থানার কার্যালয় অবস্থিত, যা প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত অনুকূল।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক হার: এখানে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রধান কার্যালয়।
জনভোগান্তি হ্রাস: চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও (যেমন বটতলী) ভবন নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং সরকারের অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হবে।
স্থানীয়দের আলটিমেটাম, ”চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন হচ্ছে এই অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। এখানে সব ধরনের সরকারি সেবা ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনিক ভবন অন্য এলাকায় নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা আমাদের দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেব।”— মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক।
মানববন্ধন শেষে বক্তারা অনতিবিলম্বে জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং জনগণের দাবি মেনে নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ভেতরেই উপজেলার স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় তারা রাজপথে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।