
নিজস্ব প্রতিবেদক | চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। এ পরিস্থিতিতে বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে ইজারাদার ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের একটি স্থানে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এতে ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে ময়লা জমে থাকলে দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
বাজারের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে জানতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ও ইজারাদারের প্রধানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধানের বক্তব্য, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা ইজারাদারের কাজ। অন্যদিকে, ইজারাদারের প্রধানের বক্তব্য, এটি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব। ফলে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার—এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করেও সমস্যার কার্যকর সমাধান বা সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
চরম ভোগান্তিতে বাজারের মানুষ
বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ময়লা অপসারণের দায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে এর ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইজারাদার, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পারস্পরিক দায় চাপানোর পরিবর্তে দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি বাজারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
প্রশ্ন উঠেছে—চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ময়লা অপসারণের দায়িত্ব আসলে কার? দায়িত্ব নির্ধারণ ও সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষকে আর কত দিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে?