সংবাদ শিরোনামঃ
সুবর্ণচর মাদ্রাসার চাল ক্রয় নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে জামায়াতের নিন্দা ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করলো স্ত্রী, এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নৃশংস পাঁচ খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা হওয়ায় কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হওয়ায় প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাজার প্রাঙ্গনে বিজয় মিছিল পুরাতন থানা ভবনে উপজেলা ভবনের কার্যক্রম শুরুর দাবি চন্দ্রগঞ্জবাসীর।।  নিখোঁজ মাদরাসা শিক্ষকের সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে সেলিম (৫০)আটক

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে অস্থায়ী দোকানের নামে চলছে চাঁদাবাজি:প্রভাবশালীদের ছএছায়ায় চলছে অস্থায়ী দোকানের বানিজ্য

আরিফুর রহমান তীব্র : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
468

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে অস্থায়ী দোকানের নামে

চলছে চাঁদাবাজি : প্রভাবশালীদের ছএছায়ায় চলছে অস্থায়ী দোকানের বানিজ্য
আরিফুর রহমান তীব্র
নিজস্ব প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে স্থায়ী দোকানগুলোর সামনের ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল করে চলছে অস্থায়ী ভ্রাম্যমান দোকানের লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দোকান বসে থাকে স্থায়ী দোকান মালিকদের সামনেই। এতে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি বাজারের শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে।তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এই অস্থায়ী দোকানগুলোর “ভাড়া” বা “চাঁদা” যাচ্ছে কার পকেটে।
বাজারের একাধিক স্থায়ী ব্যবসায়ী জানান, “আমরা নিয়মিত দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ও কর দিই। অথচ দোকানের সামনে ফুটপাতে বা রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে কিছু প্রভাবশালী লোক।”
তাদের অভিযোগ,এসব অস্থায়ী দোকানদাররা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বসে, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয় কিছু স্থানীয় দালাল বা প্রভাবশালীদের।
বাজারের এক ভ্রাম্যমান দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আমরা কেউ জোর করে বসি না। প্রতি মাসে ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় কিছু লোককে। না দিলে দোকান উঠিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ভাড়া আদায় হয় কখনো বাজার ইজারার কিছু অসাধু সদস্যের মাধ্যমে এবং কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের লোকদের মাধ্যমে। এছাড়াও এসব অস্থায়ী দোকান বসাতে প্রভাবশালীদের দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোরশেদ আলম জানান,ফুটপাত দখল ও অনুমতিহীন দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয়। আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”
তবে বাজারের প্রতিদিনের এই দৃশ্য দেখে বোঝা যায়, এই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই টিকে আছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান,স্থায়ী ব্যবসায়ীদের সামনে ফুটপাত বা রাস্তা দখল বন্ধ করা হোক এবং অবৈধভাবে ভাড়া বা চাঁদা আদায়কারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারের এই “অস্থায়ী দোকানের দাপট” এখন শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার নয়, নৈতিকতারও প্রশ্ন। জীবিকার তাগিদে মানুষ দোকান বসাবে, সেটি স্বাভাবিক কিন্তু যদি তার আড়ালে চলে অবৈধ অর্থের লেনদেন, তাহলে বাজারের শৃঙ্খলা ও ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ দুটোই বিপন্ন হয়ে পড়ে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থায়ী ব্যবসায়ী ও সাধারণত জনগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে অস্থায়ী দোকানের নামে চলছে চাঁদাবাজি:প্রভাবশালীদের ছএছায়ায় চলছে অস্থায়ী দোকানের বানিজ্য

আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
468

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে অস্থায়ী দোকানের নামে

চলছে চাঁদাবাজি : প্রভাবশালীদের ছএছায়ায় চলছে অস্থায়ী দোকানের বানিজ্য
আরিফুর রহমান তীব্র
নিজস্ব প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে স্থায়ী দোকানগুলোর সামনের ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখল করে চলছে অস্থায়ী ভ্রাম্যমান দোকানের লক্ষ লক্ষ টাকার রমরমা বাণিজ্য।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দোকান বসে থাকে স্থায়ী দোকান মালিকদের সামনেই। এতে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি বাজারের শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে।তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এই অস্থায়ী দোকানগুলোর “ভাড়া” বা “চাঁদা” যাচ্ছে কার পকেটে।
বাজারের একাধিক স্থায়ী ব্যবসায়ী জানান, “আমরা নিয়মিত দোকান ভাড়া, ট্রেড লাইসেন্স ও কর দিই। অথচ দোকানের সামনে ফুটপাতে বা রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে কিছু প্রভাবশালী লোক।”
তাদের অভিযোগ,এসব অস্থায়ী দোকানদাররা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বসে, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয় কিছু স্থানীয় দালাল বা প্রভাবশালীদের।
বাজারের এক ভ্রাম্যমান দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,আমরা কেউ জোর করে বসি না। প্রতি মাসে ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় কিছু লোককে। না দিলে দোকান উঠিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই ভাড়া আদায় হয় কখনো বাজার ইজারার কিছু অসাধু সদস্যের মাধ্যমে এবং কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের লোকদের মাধ্যমে। এছাড়াও এসব অস্থায়ী দোকান বসাতে প্রভাবশালীদের দিতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোরশেদ আলম জানান,ফুটপাত দখল ও অনুমতিহীন দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয়। আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”
তবে বাজারের প্রতিদিনের এই দৃশ্য দেখে বোঝা যায়, এই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবেই টিকে আছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান,স্থায়ী ব্যবসায়ীদের সামনে ফুটপাত বা রাস্তা দখল বন্ধ করা হোক এবং অবৈধভাবে ভাড়া বা চাঁদা আদায়কারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
চন্দ্রগঞ্জ বাজারের এই “অস্থায়ী দোকানের দাপট” এখন শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার নয়, নৈতিকতারও প্রশ্ন। জীবিকার তাগিদে মানুষ দোকান বসাবে, সেটি স্বাভাবিক কিন্তু যদি তার আড়ালে চলে অবৈধ অর্থের লেনদেন, তাহলে বাজারের শৃঙ্খলা ও ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ দুটোই বিপন্ন হয়ে পড়ে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থায়ী ব্যবসায়ী ও সাধারণত জনগণ।