নৃশংস পাঁচ খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে
- আপডেট সময় : ১১:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

নৃশংস পাঁচ খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে
মীর মোঃ মনির হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি
এ ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রাজধানী সংলগ্ন পদ্মা সেতু এলাকায় সেতুর ওপর থেকে তার ব্যবহৃত একটি ব্যাগ ও কাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।
নৃশংস এই খুনের নিহতদের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।
ঘরের মেঝেতে তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ বিছানার ওপর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েস ও কোমল পানীয়ের বোতলও উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়, যেখানে ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
মীর মোঃ মনির হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি















