সংবাদ শিরোনামঃ
এমপি জিলানীর নির্দেশে  মুক্তি পেল ৩ শতাধিক পরিবার আর্জেন্টিনার মার্তিনেজ দৃঢ় ভাবে স্পেনের অবিরাম চাপে ও কৃষকের ৪  টি গরু চুরি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে  সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো লক্ষ্মীপুরের আপন দুই ভাইয়ের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর -নোয়াখালী মহাসড়কের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিমবাজারে, তদন্তের দাবি নিজের প্রতিবন্ধী কন্যাকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ কোটিপতি বাবার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী আল আমিন গ্রেফতার বেগমগঞ্জে সিএনজি-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ: আলিম পরীক্ষার্থী নিহত, আহত ৪ চন্দ্রগঞ্জে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবি গোপালগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, আটক রেয়াজুল শেখ

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

মো: জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
395

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

মো: জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার। 

বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দো-বার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস?

এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল
সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ ছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় : ০১:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
395

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

মো: জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার। 

বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দো-বার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস?

এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল
সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ ছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।