সংবাদ শিরোনামঃ
উচ্চশিক্ষিত ছেলে সচিব হয়ে মাকে অস্বীকার করলেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুক পোস্টে বার্তা দিলেন ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ভোরের আলো ফোটার আগেই ঝরে গেল একই পরিবারের পাঁচটি প্রাণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ জাতীয়করণের দাবি জানালেন কলেজ শিবির সভাপতি মোঃ আইউব হোসেন ফাহিম কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য চন্দ্রগঞ্জের ছাত্ররাজনীতিতে ৩৫ বছর আগের বন্ধুদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, ঘাতক হাবিলকে গণধোলাই  খিলপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্দ্যোগে কোরবানি দিতে না পারা (২১৭) পরিবারের মাঝে গরুর গোস্ত বিতরণ করা হয়েছে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর দপ্তর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই রাখার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী: ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উপযোগিতা বিবেচনার আহ্বান চন্দ্রগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে গোশত বিতরণ কর্মসূচী পালিত 

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
276

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
276

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।