সংবাদ শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী কারা নির্যাতিত জাকির হোসেন  নাসা এটিকে ‘বিশ্বের জন্য একটি উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুব বিভাগের নতুন নেতৃত্বে: শহীদুল- ফজলে রাব্বি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুব বিভাগে নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সেক্রেটারি ফজলে রাব্বি মাদক ব্যবসায়ীকে ধাওয়া করতে গিয়ে পা ভাঙল নেতার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে চন্দ্রগঞ্জের মানুষ পাম্পে মিলছে না তেল, খুচরা দোকানে লিটার ২৫০-৩০০ টাকা! প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা টহল ব্যবস্থায় ধস, চন্দ্রগঞ্জে অপরাধ দমনে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ? নারী কর্মী গ্রেফতারে দেশজুড়ে প্রশ্ন

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।