তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের দাপট: নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের দাপট: নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত
- ইয়াছিন আরাফাত,সহকারী সম্পাদক |
গত কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়মিত লোডশেডিং। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।
তপ্ত দুপুরে তো বটেই, গভীর রাতেও মিলছে না স্বস্তি। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিভুক্ত এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচাইতে বেশি।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে কল-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যঘ্যাত ঘটছে স্বাভাবিক গৃহস্থালি কাজে।
তীব্র গরম আর বিদ্যুতের অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। ভ্যাপসা গরমে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া ও হিটস্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন জানান:
“এমনিতেই গরমে জান যায় যায়, তার উপর ফ্যান চলে না। ছোট বাচ্চাটা গরমে অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করছে, শরীর ঘামাচিতে ভরে গেছে। এই অবস্থায় আমরা যাবো কোথায়?”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিদ্যুৎ বিভ্রাট। লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজে থাকা পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে।
এদিকে বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুর ১ং ওয়াড এর মেম্বার পদপ্রার্থী ইমাম হোসেন জানান,আমরা পরপর কয়েকবার আমিন বাজার জোনাল অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ করার পরেও এর কোনো সমাধান পাইনি।এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান চান এলাকাবাসী।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের ঘাটতি থাকায় এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি।
নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরবাসীর এখন একটাই দাবি—দ্রুত লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতা কমিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনা হোক।




















