এডহক কমিটির সদস্যদের মতামত ছাড়াই কফিল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের কমিটি গঠনে তড়িঘড়ি, আদালতের সমন জারি
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

এডহক কমিটির সদস্যদের মতামত ছাড়াই কফিল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের কমিটি গঠনে তড়িঘড়ি, আদালতের সমন জারি
নিজস্ব প্রতিনিধি : চন্দ্রগঞ্জ
লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ–এর গভর্নিং বডির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ মোট ১৮ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছেন।
মামলার এজাহার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, পূর্ববর্তী গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর আবেদন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে নতুন গভর্নিং বডির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতি হিসেবে মোঃ ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ মনির হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়াকে “পরিকল্পিত জালিয়াতি” আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবদুর রহমান। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল একটি কথিত শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন দেখিয়ে সহকারী অধ্যাপক কমল কুমার, এনাম আহমদ ও জান্নাত আরাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে ওই নির্বাচনের কাগজপত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে, নতুন কমিটি অনুমোদনের পর গত ১১ মে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নির্বাচন কমিশনার প্রিয়ব্রত চৌধুরী পুনরায় শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন এবং আগামী ২০ মে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। মামলায় বলা হয়েছে, কাগজে-কলমে আগেই নির্বাচন সম্পন্ন দেখিয়ে কমিটি অনুমোদন নেওয়ার পর আবার নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ “পরস্পরবিরোধী, বেআইনি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের” সুস্পষ্ট প্রমাণ।
মামলায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নির্বাচন কমিশনার প্রিয়ব্রত চৌধুরী, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ মোট ১৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি ও দাতা সদস্যরাও রয়েছেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, লক্ষ্মীপুর বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ টানা তিনবার লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে এমন বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে, কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়ব্রত চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতেও কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও আলোচনা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিমত, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ভূত সংকটের সমাধান না হলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

















