সংবাদ শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডে RCC ঢালাইয়ে ধীরগতি, তৈরি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ গোপালগঞ্জে ১৭০ কেজি নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ মাছ জব্দ,আড়তদারকে জরিমানা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের  এমপি জিলানীর নির্দেশে  মুক্তি পেল ৩ শতাধিক পরিবার আর্জেন্টিনার মার্তিনেজ দৃঢ় ভাবে স্পেনের অবিরাম চাপে ও কৃষকের ৪  টি গরু চুরি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে  সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো লক্ষ্মীপুরের আপন দুই ভাইয়ের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর -নোয়াখালী মহাসড়কের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিমবাজারে, তদন্তের দাবি নিজের প্রতিবন্ধী কন্যাকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ কোটিপতি বাবার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী আল আমিন গ্রেফতার

ময়মনসিংহে সন্তানের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ 

মীর মোঃ মনির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
519

ময়মনসিংহে সন্তানের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ 

মীর মোঃ মনির হোসেন নিজস্ব প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সি কন্যাশিশুর সামনে এক নারী (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আজ শনিবার (২৫ এপিল ২০২৬) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।

 

ভুক্তভোগী ঐ নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন।

 

গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাকে জানান, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে আবার অন্য দুজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিলের পাশে ধর্ষণের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষণকারীরা শিশুকে ঘুষি মারেন। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।

 

নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকতে দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চেনে না বলে জানালে  কেটে পড়ে।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিকে তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কিছু টাকা যোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে। এই কথায় আশ্রয়দাতা মতি মিয়ার পরিবার ভীত হয়ে পড়েন।

নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রোববার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। সন্ধ্যার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে অপেক্ষমাণ দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষণ করেন।

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিম নারী তার পরিচয় সঠিক বলতে পারছেন না।

 

পিবিআই পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। তবে, ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগামীকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
Mir MD Monir Hossain
25/04/2026

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ময়মনসিংহে সন্তানের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ 

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
519

ময়মনসিংহে সন্তানের সামনে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ 

মীর মোঃ মনির হোসেন নিজস্ব প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন বছর বয়সি কন্যাশিশুর সামনে এক নারী (২৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আজ শনিবার (২৫ এপিল ২০২৬) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ মা ও আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর পাঁচদিন আগে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী এলাকায় ওই নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।

 

ভুক্তভোগী ঐ নারী উপজেলার কান্দিউড়া গ্রামের ইন্দু মিয়ার বাড়ির পাশে মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রামের সুজন মিয়া নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি পাশেই নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলী বাজারে ইজিবাইক চালাচ্ছিলেন।

 

গভীর রাতে শিশু কোলে এক নারীকে কাঁদতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে চাইলে ওই নারী তাকে জানান, তাকে (নারী) চারজন মিলে পাশের একটি বিলের পাশে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে আবার অন্য দুজন বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিলের পাশে ধর্ষণের সময় কাছে থাকা শিশুটি চিৎকার করলে তাকে জোরপূর্বক টেনে নিতে চাইলে তিনি ঝাপটে ধরে রাখেন। এ সময় ধর্ষণকারীরা শিশুকে ঘুষি মারেন। এতে বাম চোখের নিচে ক্ষত হয়।

 

নারীর এসব বর্ণনা শুনে সুজন মিয়া নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে মতি মিয়ার স্ত্রী হবিনা বেগম ওই নারীকে সেবা দিয়ে খেতে ও থাকতে দেন। এর মধ্যে পাশের কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া নামে এক যুবক গভীর রাতে এসে ওই নারীকে নিজের আত্মীয় বলে নিয়ে যেতে চাইলে নির্যাতনের শিকার নারী কাজলকে চেনে না বলে জানালে  কেটে পড়ে।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া ঘটনা ধামাচাপা দিকে তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন কেন ওই নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কিছু টাকা যোগাড় করে তার কাছে দেওয়ার জন্য অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে। এই কথায় আশ্রয়দাতা মতি মিয়ার পরিবার ভীত হয়ে পড়েন।

নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, তিনি গত রোববার বিকালে ময়মনসিংহের একটি এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার জন্য শিশুকন্যাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। সন্ধ্যার পর তিনি পথ হারিয়ে ফেললে কয়েকজন লোক তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে নান্দাইল চৌরাস্তা থেকে তাড়াইল সড়ক দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরে সেখানেই একটি বিলের কাছে নিয়ে চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে অপেক্ষমাণ দুইজন পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে ফের ধর্ষণ করেন।

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, ভিক্টিম নারী তার পরিচয় সঠিক বলতে পারছেন না।

 

পিবিআই পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। তবে, ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে তিনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আগামীকাল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
Mir MD Monir Hossain
25/04/2026