নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর -নোয়াখালী মহাসড়কের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিমবাজারে, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০২:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুর -নোয়াখালী মহাসড়কের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিমবাজারে, তদন্তের দাবি
ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি এসেছে। প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের জন্য ১১১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। তবে একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় চলমান নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক দাপ্তরিক আদেশে জানানো হয়, কুমিল্লা সড়ক জোনের অধীন নোয়াখালী সড়ক বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন “কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ (আর-১৪২) আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪-লেন উন্নয়ন” প্রকল্পের PW-03 প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় আর-১৪০ মহাসড়কের চেইনেজ ১২৬+০০০ থেকে ১৩২+৫০০ পর্যন্ত অংশে সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, সারফেসিং, রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, হার্ড শোল্ডার, আরসিসি বক্স কালভার্ট, ফুটওভার ব্রিজ, ইন্টারসেকশন, বাস-বে, সাইড রোড, রোড ডিভাইডার, সড়কপাশের ড্রেন, সুরক্ষা কাঠামোসহ বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তামূলক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য Reliable Builders Ltd.-কে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত চুক্তিমূল্য ১১১ কোটি ৩৩ লাখ ২৯ হাজার ৪৫৭ টাকা ৩৭ পয়সা (ভ্যাট ও প্রযোজ্য করসহ)। সওজের তথ্য অনুযায়ী, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির দর ১৪ দশমিক ৭৪৫ শতাংশ কম হওয়ায় তা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ শতাংশ পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দিতে হবে।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বাজার এলাকায় একই ফোরলেন প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত ও প্রকল্পের সিডিউল যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কিছু ক্ষেত্রে সিডিউলের বাইরে নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
দাপ্তরিক আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮-এর বিধান অনুসরণ করে ক্রয় প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং পরে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়।
স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পের সব কাজ নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে চার লেন সড়ক চালু হলে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও কুমিল্লার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক হবে।









