চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডে RCC ঢালাইয়ে ধীরগতি, তৈরি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০২:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কনা-বালু ফেলে রোলিং ছাড়াই ঢালাইয়ের অভিযোগ, সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ও নির্মাণমান নিশ্চিতের দাবি
ফজলে এলাহী :নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ আফজাল রোডে RCC ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলেও ধীরগতি ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সড়কের এক পাশে ঢালাই চললেও অপর পাশে বড় বড় গর্ত, কাদা-পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও সাধারণ পথচারীরা। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে যথাযথ নিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং অনুসরণ করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, RCC ঢালাইয়ের আগে সড়কে কনা ও বালু ফেলার পর প্রয়োজনীয়ভাবে রোলিং ও কমপ্যাকশন করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঢালাই করা হলে ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে সড়কের পশ্চিম পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে তা অনেকটা চোখের আড়ালে চলে যায়। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনে সড়কের গর্তে পড়ে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এতে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা আহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ, রোগী ও গর্ভবতী নারীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একদিকে পূর্ব পাশে RCC ঢালাইয়ের কাজ চলবে, অন্যদিকে পশ্চিম পাশের চলাচলযোগ্য অংশকে নিরাপদ রাখার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে না—এভাবে কাজ চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। নির্মাণকাজ চলাকালে অন্তত অস্থায়ীভাবে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা, গর্ত ভরাট, পানি নিষ্কাশন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, শুধু দ্রুত কাজ শেষ করাই যেন প্রকল্পের লক্ষ্য না হয়; বরং সড়কের বেড প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় কমপ্যাকশন, উপকরণের মান, ঢালাইয়ের পুরুত্ব এবং প্রকৌশলগত নকশা অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।
আফজাল রোডটি চন্দ্রগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকায় RCC নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কাজের ধীরগতি ও নির্মাণমান নিয়ে অভিযোগ ওঠায় সেই আশাও এখন শঙ্কায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িকভাবে দায়সারা কাজ শেষ না করে প্রকৌশলগত মানদণ্ড মেনে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পশ্চিম পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যে সড়ক মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই নির্মাণকাজই যদি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, তাহলে এর দায় নেবে কে?
তাই দ্রুত কাজের গতি বাড়ানো, নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করা, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









