সংবাদ শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ  চন্দ্রগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা  রিপোর্টার্স ক্লাবের  সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুই প্রতিমন্ত্রী মিথ্যা মামলায় স্বেচ্ছায় কারাবরণ, মুক্তি পেলেন চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান মল্লিক ১৩ মাসে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করল শিশু মুহাম্মদ সাইদুর রহমান চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডে RCC ঢালাইয়ে ধীরগতি, তৈরি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ গোপালগঞ্জে ১৭০ কেজি নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ মাছ জব্দ,আড়তদারকে জরিমানা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের  এমপি জিলানীর নির্দেশে  মুক্তি পেল ৩ শতাধিক পরিবার আর্জেন্টিনার মার্তিনেজ দৃঢ় ভাবে স্পেনের অবিরাম চাপে ও

চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডের নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারনে  দুর্ভোগে রোগী, শিক্ষার্থী ও পথচারী, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ

মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা, সহ- বার্তা সম্পাদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
223

চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডের নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারনে  দুর্ভোগে রোগী, শিক্ষার্থী ও পথচারী, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ

হাবিবুর রহমান,  সহ-বার্তা সম্পাদক

​লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার-আফজাল রোডের চলমান সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন কাজে চরম ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ ফেলে রাখায় অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রোগী ও প্রসূতি মায়েরা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন আফজাল রোডের পুরাতন পিস ঢালাইয়ের কিছু অংশ ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে ফেলার পর রহস্যজনকভাবে মূল সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যস্ততম এই সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমাট বাঁধতে শুরু করে। প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক জুড়ে এখন বড় বড় ও বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে ঠিকাদার সড়কের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রেখে শুধু ড্রেন নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে নর্দমার রূপ নেয়। প্রতিদিন বড় বড় গর্তে পড়ে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে যাচ্ছে এবং চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।

​আফজাল রোডের পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সড়কটির বেহাল দশার কারণে ইমার্জেন্সি রোগী এবং প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। ঝাঁকুনি ও উল্টে যাওয়ার ভয়ে রোগীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে পড়ছেন।

​এ ছাড়া প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে হাজারো স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী। জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে তারা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, প্রায়ই পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

​স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে দীর্ঘ এক মাস এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই কোমর পানি জমে যায়। শিশু, বয়স্ক আর রোগীদের নিয়ে আমরা অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছি। দ্রুত এই কাজ শেষ না করলে এখানে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”

​গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনতিবিলম্বে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একই সাথে, ধীরগতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডের নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারনে  দুর্ভোগে রোগী, শিক্ষার্থী ও পথচারী, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
223

চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডের নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারনে  দুর্ভোগে রোগী, শিক্ষার্থী ও পথচারী, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ

হাবিবুর রহমান,  সহ-বার্তা সম্পাদক

​লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার-আফজাল রোডের চলমান সড়ক ও ড্রেন উন্নয়ন কাজে চরম ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজ ফেলে রাখায় অল্প বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রোগী ও প্রসূতি মায়েরা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন আফজাল রোডের পুরাতন পিস ঢালাইয়ের কিছু অংশ ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে ফেলার পর রহস্যজনকভাবে মূল সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ব্যস্ততম এই সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমাট বাঁধতে শুরু করে। প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক জুড়ে এখন বড় বড় ও বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে ঠিকাদার সড়কের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রেখে শুধু ড্রেন নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে নর্দমার রূপ নেয়। প্রতিদিন বড় বড় গর্তে পড়ে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে যাচ্ছে এবং চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।

​আফজাল রোডের পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সড়কটির বেহাল দশার কারণে ইমার্জেন্সি রোগী এবং প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। ঝাঁকুনি ও উল্টে যাওয়ার ভয়ে রোগীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে পড়ছেন।

​এ ছাড়া প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে হাজারো স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী। জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে তারা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, প্রায়ই পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

​স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে দীর্ঘ এক মাস এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই কোমর পানি জমে যায়। শিশু, বয়স্ক আর রোগীদের নিয়ে আমরা অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছি। দ্রুত এই কাজ শেষ না করলে এখানে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”

​গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি অনতিবিলম্বে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একই সাথে, ধীরগতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।