সংবাদ শিরোনামঃ
বর্তমান সরকারও আগের সরকারের পথেই হাঁটছে: গাজীপুরে ডা. শফিকুর রহমান টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট চন্দ্রগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলার এগারো দিন পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মামলা, ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাংবাদিকের ওপর হামলা মামলায় ৩নং আসামির জামিন নামঞ্জুর,কারাগারে প্রেরণ মান্দারীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু, দাফনের  আগে স্বামী উধাও, স্বজনদের দাবী এটি হ/ত্যা  চন্দ্রগঞ্জে সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন, অভিযুক্ত আটক মা ও ভাতিজিকে জবাই করে হত্যা, যুবক আটক পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার স্বজনের আহাজারিতে আকাশ ভারি! বিএনপি নেতার গোয়াল ঘরে চোরাই গরু দল থেকে শোকজ

চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ 

ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ

ফজলে এলাহী :নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকার ন্যাশনাল হসপিটালে রোগী ভর্তি ও বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এক ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৈরি করা বিলের কয়েকটি খাত নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, গতকাল রাতে তাঁর স্ত্রীকে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে রোগীকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ৩ হাজার ২৫০ টাকা বিল করে। বিলের মধ্যে ভর্তি চার্জ ৫০০ টাকা, সিট ভাড়া ১ হাজার টাকা, ক্যানুলা লাগানোর চার্জ ৪০০ টাকা, ডিউটি চিকিৎসকের ভিজিট ৭০০ টাকা (রোগীকে হয় মাত্র একবার) এবং সার্ভিস চার্জ ৬৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন ৬৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে, তখন আলাদাভাবে ভর্তি চার্জ এবং ক্যানুলা লাগানোর জন্য ৪০০ টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কী? তাঁর দাবি, ক্যানুলা লাগানোর কাজ চিকিৎসক নিজে করেননি; তাই সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি এ খাতে আলাদা অর্থ নেওয়া নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।

ভুক্তভোগী আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী এসব চার্জ নেওয়া হয় বলে জানায়। একই ধরনের নিয়মে অন্যান্য হাসপাতালেও চার্জ নেওয়া হচ্ছে বলেও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাধারণ রোগী ও স্বজনদের কাছে বিভিন্ন খাতে আলাদা আলাদা চার্জ আরোপের কারণে চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের বিল বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিলের প্রতিটি খাত তাদের নির্ধারিত নিয়ম ও সেবার বিপরীতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

এদিকে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। হাসপাতালের নির্ধারিত সেবামূল্য, ভর্তি ফি, সিট ভাড়া, ক্যানুলা স্থাপনসহ প্রতিটি খাতে কত টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে এবং বিলের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

  1. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবামূল্য ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এতে রোগী ও স্বজনদের অযাচিত হয়রানি কমার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় জবাবদিহিতা বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ 

আপডেট সময় : ০৫:০২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ

ফজলে এলাহী :নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালী।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকার ন্যাশনাল হসপিটালে রোগী ভর্তি ও বিভিন্ন সেবার নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এক ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৈরি করা বিলের কয়েকটি খাত নিয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, গতকাল রাতে তাঁর স্ত্রীকে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে রোগীকে রিলিজ দেওয়ার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ৩ হাজার ২৫০ টাকা বিল করে। বিলের মধ্যে ভর্তি চার্জ ৫০০ টাকা, সিট ভাড়া ১ হাজার টাকা, ক্যানুলা লাগানোর চার্জ ৪০০ টাকা, ডিউটি চিকিৎসকের ভিজিট ৭০০ টাকা (রোগীকে হয় মাত্র একবার) এবং সার্ভিস চার্জ ৬৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন ৬৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে, তখন আলাদাভাবে ভর্তি চার্জ এবং ক্যানুলা লাগানোর জন্য ৪০০ টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কী? তাঁর দাবি, ক্যানুলা লাগানোর কাজ চিকিৎসক নিজে করেননি; তাই সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি এ খাতে আলাদা অর্থ নেওয়া নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।

ভুক্তভোগী আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী এসব চার্জ নেওয়া হয় বলে জানায়। একই ধরনের নিয়মে অন্যান্য হাসপাতালেও চার্জ নেওয়া হচ্ছে বলেও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাধারণ রোগী ও স্বজনদের কাছে বিভিন্ন খাতে আলাদা আলাদা চার্জ আরোপের কারণে চিকিৎসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এ ধরনের বিল বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিলের প্রতিটি খাত তাদের নির্ধারিত নিয়ম ও সেবার বিপরীতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

এদিকে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। হাসপাতালের নির্ধারিত সেবামূল্য, ভর্তি ফি, সিট ভাড়া, ক্যানুলা স্থাপনসহ প্রতিটি খাতে কত টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে এবং বিলের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

  1. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবামূল্য ও বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এতে রোগী ও স্বজনদের অযাচিত হয়রানি কমার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় জবাবদিহিতা বাড়বে।