সংবাদ শিরোনামঃ
গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ চন্দ্রগঞ্জ সাব- রেজিষ্ট্রি অফিসে “অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬” অনুষ্ঠিত মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে  ‎বিরামপুর উপজেলায় ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ উদ্বোধন‎ প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করল ৬০ বছরের আপন চাচা ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কোটালীপাড়া মুনা হসপিটালে অপারেশনের সময় প্রসূতির মৃত্যু আজ দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনে প্রায় ৯লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হবে চরশাহীতে জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় ৩ পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুরে আল মানার হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক

মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে 

মীর মোঃ মনির হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে 

মীর মোঃ মনির হোসেন নিজস্ব প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুম আগমনের আগ দিয়ে সারাদেশে আবারও ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষা শুরু হলেই দ্রুত বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি।

বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখনই। কারণ বর্ষার শুরুতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা দ্রুত জন্ম নেয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংক্রমণ বিস্তারলাভ করে। তাই মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কারণ ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত জুন থেকে বাড়তে শুরু করে, জুলাই ও আগস্টে সংক্রমণ বিস্তার লাভ করে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর নভেম্বর থেকে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সাবেক আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সঙ্গে আবহাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টিপাত ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে এডিস মশার বংশবিস্তারও দ্রুত হয়। বিশেষ করে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, যা মশার লার্ভা জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। বর্তমানে যে আবহাওয়াগত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন শুধু অতিবৃষ্টি হলেই ডেঙ্গু বাড়ে। বাস্তবে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ সময় ধরে আর্দ্র আবহাওয়া এডিস মশার জন্য বেশি অনুকূল। কারণ এতে পানি দীর্ঘ সময় স্থির থাকে এবং মশার প্রজনন সহজ হয়। তাই বর্ষাকালে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। স্বাস্থ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সামাজিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগিরকরা মিলে যদি এক সঙ্গে কাজ করি, তাহলে তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব।

জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা অব্যবহৃত পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু রোগে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু টানা জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, পেট ব্যথা বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

মীর মোঃ মনির হোসেন 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে 

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে 

মীর মোঃ মনির হোসেন নিজস্ব প্রতিনিধি

বর্ষা মৌসুম আগমনের আগ দিয়ে সারাদেশে আবারও ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষা শুরু হলেই দ্রুত বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি।

বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখনই। কারণ বর্ষার শুরুতে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা দ্রুত জন্ম নেয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংক্রমণ বিস্তারলাভ করে। তাই মৌসুম শুরুর আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কারণ ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত জুন থেকে বাড়তে শুরু করে, জুলাই ও আগস্টে সংক্রমণ বিস্তার লাভ করে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর নভেম্বর থেকে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সাবেক আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সঙ্গে আবহাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টিপাত ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে এডিস মশার বংশবিস্তারও দ্রুত হয়। বিশেষ করে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, যা মশার লার্ভা জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। বর্তমানে যে আবহাওয়াগত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন শুধু অতিবৃষ্টি হলেই ডেঙ্গু বাড়ে। বাস্তবে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘ সময় ধরে আর্দ্র আবহাওয়া এডিস মশার জন্য বেশি অনুকূল। কারণ এতে পানি দীর্ঘ সময় স্থির থাকে এবং মশার প্রজনন সহজ হয়। তাই বর্ষাকালে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতা জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। স্বাস্থ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সামাজিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগিরকরা মিলে যদি এক সঙ্গে কাজ করি, তাহলে তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব।

জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা অব্যবহৃত পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু রোগে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু টানা জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, পেট ব্যথা বা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

মীর মোঃ মনির হোসেন