সংবাদ শিরোনামঃ
‘খুনিদের গ্রেফতার করুন’, গাইবান্ধায় রাজপথে শিবির নেতাকর্মীরা টুঙ্গিপাড়ায় ঋণে জর্জরিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে বুড়া হুজুর (রঃ) জামে মসজিদের খতিবের নেতৃত্ব মাদকবিরোধী গণমিছিল দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রুবেল সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা চন্দ্রগঞ্জে অবৈধ জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৮ চন্দ্রগঞ্জ আফজাল রোডে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ ও গাড়ি চালক চন্দ্রগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিধবার জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি থানায় মামলা চন্দ্রগঞ্জে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পুলিশের বিশেষ অভিযানে গোপালগঞ্জে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

‘খুনিদের গ্রেফতার করুন’, গাইবান্ধায় রাজপথে শিবির নেতাকর্মীরা

এমদাদুল হক মীর নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুনিদের গ্রেফতার করুন’, গাইবান্ধায় রাজপথে শিবির নেতাকর্মীরা

এমদাদুল হক মীর নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাঘাটায় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ইসলামী ছাত্রশিবির। হত্যার পরদিনই খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধার রাজপথে নেমেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলার সাত উপজেলা থেকে আগত ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা ‘সাইফুল্লাহ হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে’, ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে সকাল ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফেরদৌস আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল, তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। অথচ ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বক্তারা বলেন, “এটি শুধু একজন নেতার হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রশিবির সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে নিহতের পরিবার ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং উপজেলার শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে।

এ ঘটনায় আহত হন সালাউদ্দিন নামের আরও এক জামায়াতকর্মী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে চাপ বাড়ছে।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, খুনিদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘খুনিদের গ্রেফতার করুন’, গাইবান্ধায় রাজপথে শিবির নেতাকর্মীরা

আপডেট সময় : ০৫:৫০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

খুনিদের গ্রেফতার করুন’, গাইবান্ধায় রাজপথে শিবির নেতাকর্মীরা

এমদাদুল হক মীর নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাঘাটায় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ইসলামী ছাত্রশিবির। হত্যার পরদিনই খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধার রাজপথে নেমেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলার সাত উপজেলা থেকে আগত ছাত্রশিবিরের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা ‘সাইফুল্লাহ হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে’, ‘সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে সকাল ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফেরদৌস আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল, তার ভাই পলাশসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। অথচ ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বক্তারা বলেন, “এটি শুধু একজন নেতার হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রশিবির সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে নিহতের পরিবার ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালানো হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং উপজেলার শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে।

এ ঘটনায় আহত হন সালাউদ্দিন নামের আরও এক জামায়াতকর্মী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে চাপ বাড়ছে।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলছেন, খুনিদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।