সংবাদ শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির হরিলুট ও অব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মবিরতি গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ চন্দ্রগঞ্জ সাব- রেজিষ্ট্রি অফিসে “অভ্যন্তরীন প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬” অনুষ্ঠিত মৌসুম শুরুর আগেই সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে  ‎বিরামপুর উপজেলায় ৩নং খানপুর ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ উদ্বোধন‎ প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করল ৬০ বছরের আপন চাচা ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কোটালীপাড়া মুনা হসপিটালে অপারেশনের সময় প্রসূতির মৃত্যু আজ দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনে প্রায় ৯লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হবে চরশাহীতে জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় ৩ পরিবারের মাঝে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির হরিলুট ও অব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মবিরতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির হরিলুট ও অব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চন্দ্রগঞ্জ
লক্ষ্মীপুরের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির চরম অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের (হরিলুট) কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম। কমিটির বৈষম্য ও পাওনা মজুরি না পাওয়ার ক্ষোভে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডাকায় পুরো বাজার এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ময়লার স্তূপে বাজার, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
সরেজমিনে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের প্রধান গলি, মাছ বাজার, কাঁচাবাজার এবং লতিফ মার্কেট সংলগ্ন এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি মোড়েই জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। গত কয়েকদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে বাজারে পা ফেলাই দায় হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“আমরা নিয়মিত বাজার সমিতিকে চাঁদা ও টোল দিচ্ছি। অথচ বাজারের কোনো উন্নয়ন তো দূরের কথা, সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চাচ্ছেন না। কমিটির লোকজন শুধু টাকা লুটপাটেই ব্যস্ত।”

কেন এই কর্মবিরতি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার পকেট ভারী হলেও তাদের ভাগ্য বদলায়নি। তাদের অভিযোগ:
বকেয়া মজুরি: দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য মজুরি ও ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না।

আর্থিক বৈষম্য: বাজারের টোল ও চাদাবাজির লাখ লাখ টাকা কমিটির তহবিলে জমা হলেও পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয় না।

আশ্বাস ভঙ্গ: বারবার পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হলেও কমিটি শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছে, কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি।

ফলে বাধ্য হয়েই তারা এই “রোজগার বন্ধের” আন্দোলন তথা কর্মবিরতির পথ বেছে নিয়েছেন।

তহবিলের টাকা কোথায় যায়?

সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতি মাসে বাজার থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ও চাঁদা আদায় করে। ফুটপাত, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং দোকানপাট থেকে আদায়কৃত এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ কমিটির কয়েকজন নেতার পকেটে যাচ্ছে। বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, বাতি সচল রাখা বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি কাজে কোনো অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না। কমিটির এই “হরিলুটের” কারণেই আজ ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি অভিভাবকহীন ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
বাজারের এই অচলাবস্থা ও হরিলুটের বিষয়ে জানতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটিকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। একই সাথে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত বাজারকে পরিচ্ছন্ন ও সচল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির হরিলুট ও অব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির হরিলুট ও অব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চন্দ্রগঞ্জ
লক্ষ্মীপুরের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির চরম অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের (হরিলুট) কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম। কমিটির বৈষম্য ও পাওনা মজুরি না পাওয়ার ক্ষোভে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডাকায় পুরো বাজার এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ময়লার স্তূপে বাজার, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ
সরেজমিনে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের প্রধান গলি, মাছ বাজার, কাঁচাবাজার এবং লতিফ মার্কেট সংলগ্ন এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি মোড়েই জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। গত কয়েকদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে বাজারে পা ফেলাই দায় হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“আমরা নিয়মিত বাজার সমিতিকে চাঁদা ও টোল দিচ্ছি। অথচ বাজারের কোনো উন্নয়ন তো দূরের কথা, সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চাচ্ছেন না। কমিটির লোকজন শুধু টাকা লুটপাটেই ব্যস্ত।”

কেন এই কর্মবিরতি?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার পকেট ভারী হলেও তাদের ভাগ্য বদলায়নি। তাদের অভিযোগ:
বকেয়া মজুরি: দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য মজুরি ও ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না।

আর্থিক বৈষম্য: বাজারের টোল ও চাদাবাজির লাখ লাখ টাকা কমিটির তহবিলে জমা হলেও পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক খাতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয় না।

আশ্বাস ভঙ্গ: বারবার পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হলেও কমিটি শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছে, কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি।

ফলে বাধ্য হয়েই তারা এই “রোজগার বন্ধের” আন্দোলন তথা কর্মবিরতির পথ বেছে নিয়েছেন।

তহবিলের টাকা কোথায় যায়?

সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতি মাসে বাজার থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ও চাঁদা আদায় করে। ফুটপাত, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং দোকানপাট থেকে আদায়কৃত এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ কমিটির কয়েকজন নেতার পকেটে যাচ্ছে। বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, বাতি সচল রাখা বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি কাজে কোনো অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না। কমিটির এই “হরিলুটের” কারণেই আজ ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি অভিভাবকহীন ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
বাজারের এই অচলাবস্থা ও হরিলুটের বিষয়ে জানতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটিকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। একই সাথে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত বাজারকে পরিচ্ছন্ন ও সচল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।