“তরুণদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ”
৯নং কুশাখালীর ১২ গ্রামে খেলার মাঠের দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

কুশাখালীর ১২ গ্রামে খেলার মাঠের দাবি
তরুণদের মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে মাঠ চেয়ে সামাজিক উদ্যোগ
মুহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রতিদিন
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ৯নং কুশাখালী ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের ১২টি গ্রামে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় মাঠের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলার মাঠ শুধু খেলাধুলার জায়গা নয়; এটি শিশু-কিশোর ও তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার অন্যতম মাধ্যম। মাঠের সংকটের কারণে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে তরুণদের একটি অংশ মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার লক্ষ্যেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠের দাবি তোলা হয়েছে।
এই উদ্যোগে দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা সমর্থন জানাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।
কুশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “আমাদের কুশাখালী ইউনিয়ন থেকে অনেক ভালো ক্রিকেটার ও ফুটবলার তৈরি হয়েছে। তারা ঢাকা লীগ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় খেলেছেন এবং বর্তমানে অনেকে ভালো ক্লাবেও খেলছেন। তাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এলাকায় আরও ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। কিন্তু মাঠের সংকট থাকায় সবাই এক জায়গায় গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে না। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাঠ থাকলে খেলোয়াড়রা নিজেদের এলাকার কাছেই নিয়মিত অনুশীলন করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাজী কাশেমকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি মহোদয়ের কাছে তুলে ধরব এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কাজ করব।”
হাজীগঞ্জ স্পোর্টিং একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, “খেলার মাঠের সংকট আমাদের এলাকার দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। আমি নিজেও খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের অভাব ও দূরে গিয়ে অনুশীলনের সমস্যার অভিজ্ঞতা পেয়েছি। তাই তরুণদের মাঠমুখী করা এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির জন্য স্থানীয়ভাবে খেলার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-চাঁদাবাজি বা অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কাজ করতে হলে তরুণদের জন্য ইতিবাচক বিকল্প তৈরি করতে হবে। খেলাধুলা সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। আমরা দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, কুশাখালী ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ থাকলে শিশু-কিশোর ও তরুণরা নিজ নিজ এলাকার কাছেই নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এতে স্থানীয় ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার সুযোগও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিষয়টি স্থানীয় পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে ৯নং কুশাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
















