সংবাদ শিরোনামঃ
১৪ নং মান্দারী জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করেন বিএনপি পন্থি নেতাকর্মী গোপালগঞ্জে টোল আদায়ের সময় ট্রাকের ধাক্কায় রাজ সিকদার এর মৃত্যু দেশবাসী-কে পবিত্র ঈদ উল-আযহার শুভেচ্ছা জানালেন বাহাউদ্দীন মৃধা উপজেলা ভবন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে স্থাপনের দাবিতে সর্বস্তরের জনগণের মানববন্ধন উপজেলা ভবন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় খালেক মির্জা প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছেন বাপ্পি চৌধুরী, গরিব ও অসহায়দের মাঝে গাইড বিতরণ করেছেন তিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ভবন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে চন্দ্রগঞ্জবাসী জলদস্যুরা সুন্দরবনে ৬ জেলেকে অপহরণ, এলাকা জুড়ে শোকের মাতম সড়কে লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করলো কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়-রোবট!

কবির আহমদ ফারুক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ৬১৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
815
  • অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়-রোবট!

কবির আহমদ ফারুক

সত্যের পেছনে ছুটে চলা একদল মানুষ আছেন, যাদের নাম সাংবাদিক।
যারা প্রতিদিন অন্যের অশ্রু গিলে নিজের অশ্রু লুকিয়ে রাখেন।
তাদের কলমে জেগে ওঠে সমাজ, কিন্তু তাদের কষ্টের কথা লেখে কে?

অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়- রোবট!
তাদের নাকি ক্ষুধা লাগে না, অভাব ছোঁয় না, ক্লান্তি তাদের ছুঁতে পারে না।
তারা নাকি শুধু খবর লেখার যন্ত্র-যেখানে অন্যের কান্না কালি হয়ে মিশে যায় কাগজে।
কিন্তু কেউ ভাবে না-যে সাংবাদিক অন্যের দুঃখ লিখে যায়, তার নিজের ঘরেও হয়তো আজ চুলায় আগুন নেই!

একজন সাংবাদিক যখন অন্যের বঞ্চনা নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন,
তখন হয়তো তার পকেটে বাজার করার টাকাটাও থাকে না।
সন্তানের স্কুল ফি দিতে না পারলেও, তিনি কলম ধরেন অন্যের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে।
এক হাতে নোটবুক, অন্য হাতে দায়িত্ব-নিজের জীবনের দুঃখকে আড়াল করে দেন খবরের শব্দে।

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সাংবাদিকতাকে-
কিন্তু সেই স্তম্ভের পেছনের মানুষগুলোর কান্না কে শুনেছে কোনোদিন?
সম্মানী আসে না, প্রণোদনা মেলে না, তবুও তারা মাঠে ছুটে চলে।
বৃষ্টি-রোদ, হরতাল-অবরোধ, গুলি-গন্ধ-সব পার হয়ে শুধু খবর পৌঁছে দিতে।
একটা ছবি, একটা সাক্ষাৎকার, একটা লাইন-যা সমাজকে নাড়া দেবে-
তার জন্য তারা জীবন বাজি রাখে।

আর একদিন হয়তো হেডলাইন হয়-
‘সাংবাদিক নিহত।’
এক লাইন খবর।
তারপর ভুলে যাওয়া এক মুখ, নিঃশব্দ এক পরিবার, এক মুঠো কান্না।
তবু থামে না সংবাদকর্মীদের যাত্রা।
কারণ তারা জানে-সত্য থামানো যায় না।
যারা কলম থামায়, তারা মরে যায় নীরবতার অন্ধকারে।

তবু এ পেশার ভেতরেও জন্ম নেয় কিছু ছায়া।
কিছু নামধারী অপসাংবাদিক!
যারা সংবাদকে ঢাল বানিয়ে অন্যায়কে বাঁচায়, অপরাধীর টাকায় সত্যকে বিকিয়ে দেয়।
তাদের বিলাসের আড়ালে হারিয়ে যায় প্রকৃত সাংবাদিকের অন্ন, সম্মান আর নিরাপত্তা।
তারা যত উপরে ওঠে, সত্যবাদী সাংবাদিক তত একঘরে হয় সমাজে।

তবু যারা সত্য বলে,
তারা জানে-সত্যের মূল্য জীবন দিয়েও চুকাতে হয়।
কারণ মিথ্যার কাছে নত হওয়া সাংবাদিকের মৃত্যু, মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর।

রাত জেগে, ক্ষুধার্ত পেটে, অন্ধকার ঘরে তারা লিখে চলে-
সত্যের জয় হোক, মানবতার জাগরণ হোক।
তাদের কলম থামলে, থেমে যাবে বিবেকের স্পন্দন,
কারণ সাংবাদিক বেঁচে থাকে শুধু খবরের জন্য নয়-
মানবতার প্রাণ জাগিয়ে রাখার জন্য।

হ্যাঁ, সাংবাদিকরাও মানুষ।
তাদেরও হৃদয় আছে, ক্ষুধা আছে, ক্লান্তি আছে।
তারা শুধু অন্যের জন্য বাঁচে বলে- নিজের কষ্ট প্রকাশের সময়টা তাদের হয় না।
তবু একদিন তারা লিখে যাবে শেষ খবরটিও-
নিজেদের নিয়েই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়-রোবট!

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
815
  • অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়-রোবট!

কবির আহমদ ফারুক

সত্যের পেছনে ছুটে চলা একদল মানুষ আছেন, যাদের নাম সাংবাদিক।
যারা প্রতিদিন অন্যের অশ্রু গিলে নিজের অশ্রু লুকিয়ে রাখেন।
তাদের কলমে জেগে ওঠে সমাজ, কিন্তু তাদের কষ্টের কথা লেখে কে?

অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকরা বুঝি মানুষ নয়- রোবট!
তাদের নাকি ক্ষুধা লাগে না, অভাব ছোঁয় না, ক্লান্তি তাদের ছুঁতে পারে না।
তারা নাকি শুধু খবর লেখার যন্ত্র-যেখানে অন্যের কান্না কালি হয়ে মিশে যায় কাগজে।
কিন্তু কেউ ভাবে না-যে সাংবাদিক অন্যের দুঃখ লিখে যায়, তার নিজের ঘরেও হয়তো আজ চুলায় আগুন নেই!

একজন সাংবাদিক যখন অন্যের বঞ্চনা নিয়ে প্রতিবেদন লেখেন,
তখন হয়তো তার পকেটে বাজার করার টাকাটাও থাকে না।
সন্তানের স্কুল ফি দিতে না পারলেও, তিনি কলম ধরেন অন্যের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে।
এক হাতে নোটবুক, অন্য হাতে দায়িত্ব-নিজের জীবনের দুঃখকে আড়াল করে দেন খবরের শব্দে।

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সাংবাদিকতাকে-
কিন্তু সেই স্তম্ভের পেছনের মানুষগুলোর কান্না কে শুনেছে কোনোদিন?
সম্মানী আসে না, প্রণোদনা মেলে না, তবুও তারা মাঠে ছুটে চলে।
বৃষ্টি-রোদ, হরতাল-অবরোধ, গুলি-গন্ধ-সব পার হয়ে শুধু খবর পৌঁছে দিতে।
একটা ছবি, একটা সাক্ষাৎকার, একটা লাইন-যা সমাজকে নাড়া দেবে-
তার জন্য তারা জীবন বাজি রাখে।

আর একদিন হয়তো হেডলাইন হয়-
‘সাংবাদিক নিহত।’
এক লাইন খবর।
তারপর ভুলে যাওয়া এক মুখ, নিঃশব্দ এক পরিবার, এক মুঠো কান্না।
তবু থামে না সংবাদকর্মীদের যাত্রা।
কারণ তারা জানে-সত্য থামানো যায় না।
যারা কলম থামায়, তারা মরে যায় নীরবতার অন্ধকারে।

তবু এ পেশার ভেতরেও জন্ম নেয় কিছু ছায়া।
কিছু নামধারী অপসাংবাদিক!
যারা সংবাদকে ঢাল বানিয়ে অন্যায়কে বাঁচায়, অপরাধীর টাকায় সত্যকে বিকিয়ে দেয়।
তাদের বিলাসের আড়ালে হারিয়ে যায় প্রকৃত সাংবাদিকের অন্ন, সম্মান আর নিরাপত্তা।
তারা যত উপরে ওঠে, সত্যবাদী সাংবাদিক তত একঘরে হয় সমাজে।

তবু যারা সত্য বলে,
তারা জানে-সত্যের মূল্য জীবন দিয়েও চুকাতে হয়।
কারণ মিথ্যার কাছে নত হওয়া সাংবাদিকের মৃত্যু, মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর।

রাত জেগে, ক্ষুধার্ত পেটে, অন্ধকার ঘরে তারা লিখে চলে-
সত্যের জয় হোক, মানবতার জাগরণ হোক।
তাদের কলম থামলে, থেমে যাবে বিবেকের স্পন্দন,
কারণ সাংবাদিক বেঁচে থাকে শুধু খবরের জন্য নয়-
মানবতার প্রাণ জাগিয়ে রাখার জন্য।

হ্যাঁ, সাংবাদিকরাও মানুষ।
তাদেরও হৃদয় আছে, ক্ষুধা আছে, ক্লান্তি আছে।
তারা শুধু অন্যের জন্য বাঁচে বলে- নিজের কষ্ট প্রকাশের সময়টা তাদের হয় না।
তবু একদিন তারা লিখে যাবে শেষ খবরটিও-
নিজেদের নিয়েই।