ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
বিএনপিকে অবশ‍্যই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে, নিজ দলে সৎ যোগ‍্য ও ত‍্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে, সাবেক ছাত্রনেতার ফেইসবুক স্ট্যাটাস জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়ায় যুবককে হাতুড়িপেটা, বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে হান্নান মাসুদের বাবা জামানত হারালেন মোটরসাইকেল উল্টে প্রাণ গেল একমাত্র সন্তানের পাবনার জামানত হারালেন ১৬ প্রার্থী বাগেরহাটে সংঘর্ষে আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত ঝালকাঠির দুই আসন বিএনপির ঘাঁটিতে এবার শক্তিশালী অবস্থানে জামায়াত, ভোট যুদ্ধে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে ভারতীয় চোরাচালানে জড়িত কুরিয়ার সার্ভিস, আটক ২। বিএনপি’র হামলায় জামাতের দশজন আহত হ্যান্ড পেইন্ট নিয়ে কিছু কথা-জেনে নিন নিয়ম পদ্ধতি

তুরস্ক কেন জামায়াতের বন্ধু, তাহলে কি তুরস্কের একে পার্টির মতো ক্ষমতার মসনদে আসীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী??

গাজী জিসান আহম্মেদ
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা .করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৩ সালে ওসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে তুরস্ককে কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করেন। নিষিদ্ধ হয় ধর্মভিত্তিক দল। ১৯৭০ সালে ইসলামপন্থি দল ন্যাশনাল অর্ডার পার্টি গঠিত হলে তা নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৭২ সালে গঠিত ইসলামপন্থি দল ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টি ১৯৮৮ সালে নিষিদ্ধ হলে ওয়েলফেয়ার পার্টি গঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও তুর্কি সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন আরবাকানকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দলটি নিষিদ্ধ হয়। ২০০১ সালে এরদোগান ওয়েলফেয়ার পার্টির ধর্মীয় পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উদার ও গণতান্ত্রিক পরিচয়ের একে পার্টিতে রূপান্তর করেন। ২০০২ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হন এরদোগান। টানা তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হন তিনি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতেও জামায়াতের প্রধান সমর্থক তুরস্ক। যুদ্ধাপরাধের বিচার পর্যবেক্ষণে দুই দফায় প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটি। জামায়াতের সুরে তুরস্ক একাধিকবার বলেছে, বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি। গোলাম আযমকে ফাঁসি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৩ সালে তৎকালীন তুর্কি প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বাংলাদেশকে চিঠি দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিজামীর ফাঁসি না দিতেও বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছিল তুরস্ক।
জামায়াতের সংস্কার নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। দলটি এ ক্ষেত্রেও একে পার্টিকে অনুসরণ করছে। এরদোগান যেভাবে ধর্মীয় পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উদারপন্থি দল গঠন করেছিলেন একইভাবে নতুন নামে দল গঠনের পক্ষপাতি জামায়াতের উদারপন্থিরা। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘ইসলামী আন্দোলন :দেশে দেশে আরব বসন্ত’ শিরোনামে একটি লেখায়ও একই কথা বলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তুরস্ক কেন জামায়াতের বন্ধু, তাহলে কি তুরস্কের একে পার্টির মতো ক্ষমতার মসনদে আসীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী??

আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা .করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৩ সালে ওসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে তুরস্ককে কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করেন। নিষিদ্ধ হয় ধর্মভিত্তিক দল। ১৯৭০ সালে ইসলামপন্থি দল ন্যাশনাল অর্ডার পার্টি গঠিত হলে তা নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৭২ সালে গঠিত ইসলামপন্থি দল ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টি ১৯৮৮ সালে নিষিদ্ধ হলে ওয়েলফেয়ার পার্টি গঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলেও তুর্কি সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন আরবাকানকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দলটি নিষিদ্ধ হয়। ২০০১ সালে এরদোগান ওয়েলফেয়ার পার্টির ধর্মীয় পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উদার ও গণতান্ত্রিক পরিচয়ের একে পার্টিতে রূপান্তর করেন। ২০০২ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হন এরদোগান। টানা তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হন তিনি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতেও জামায়াতের প্রধান সমর্থক তুরস্ক। যুদ্ধাপরাধের বিচার পর্যবেক্ষণে দুই দফায় প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটি। জামায়াতের সুরে তুরস্ক একাধিকবার বলেছে, বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি। গোলাম আযমকে ফাঁসি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৩ সালে তৎকালীন তুর্কি প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বাংলাদেশকে চিঠি দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নিজামীর ফাঁসি না দিতেও বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছিল তুরস্ক।
জামায়াতের সংস্কার নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। দলটি এ ক্ষেত্রেও একে পার্টিকে অনুসরণ করছে। এরদোগান যেভাবে ধর্মীয় পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উদারপন্থি দল গঠন করেছিলেন একইভাবে নতুন নামে দল গঠনের পক্ষপাতি জামায়াতের উদারপন্থিরা। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘ইসলামী আন্দোলন :দেশে দেশে আরব বসন্ত’ শিরোনামে একটি লেখায়ও একই কথা বলেন।