সংবাদ শিরোনামঃ
চন্দ্রগঞ্জ ন্যাশনাল হসপিটালে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ  চন্দ্রগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা  রিপোর্টার্স ক্লাবের  সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুই প্রতিমন্ত্রী মিথ্যা মামলায় স্বেচ্ছায় কারাবরণ, মুক্তি পেলেন চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান মল্লিক ১৩ মাসে ৩০ পারা কোরআন মুখস্থ করল শিশু মুহাম্মদ সাইদুর রহমান চন্দ্রগঞ্জের আফজাল রোডে RCC ঢালাইয়ে ধীরগতি, তৈরি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ গোপালগঞ্জে ১৭০ কেজি নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ মাছ জব্দ,আড়তদারকে জরিমানা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের  এমপি জিলানীর নির্দেশে  মুক্তি পেল ৩ শতাধিক পরিবার আর্জেন্টিনার মার্তিনেজ দৃঢ় ভাবে স্পেনের অবিরাম চাপে ও

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো লক্ষ্মীপুরের আপন দুই ভাইয়ের

ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
234

 

ফজলে এলাহী, নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর

বিদেশের মাটিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। মর্মান্তিক এই সংবাদে গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।

নিহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফাবাড়ির ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে দুই ভাই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই প্রাণ হারান।

গতকাল বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ পুরো চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আদরের দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের বড় দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী জানান, তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরতেই প্রবাসে গিয়েছিলেন, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তাঁদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় আছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। স্বজনদের আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখার সুযোগ পান এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হলো লক্ষ্মীপুরের আপন দুই ভাইয়ের

আপডেট সময় : ০৫:০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
234

 

ফজলে এলাহী, নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর

বিদেশের মাটিতে সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। মর্মান্তিক এই সংবাদে গ্রামজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল।

নিহতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফাবাড়ির ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলে। জীবিকার তাগিদে দুই ভাই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে দুই ভাই প্রাণ হারান।

গতকাল বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ পুরো চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। আদরের দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গণিপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের বড় দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এলাকাবাসী জানান, তাঁরা কেবল পরিবারের হাল ধরতেই প্রবাসে গিয়েছিলেন, কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা এখন কেবল তাঁদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় আছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। স্বজনদের আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখার সুযোগ পান এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করতে পারেন।