চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর দপ্তর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই রাখার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী: ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উপযোগিতা বিবেচনার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর দপ্তর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই রাখার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী: ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উপযোগিতা বিবেচনার আহ্বান
মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা : সহ-বার্তা সম্পাদক
নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হবে—তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভৌগোলিক কেন্দ্রস্থল, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, উপযুক্ততা এবং উপযোগিতা বিবেচনা না করে যদি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাইরে সদর দপ্তর নেওয়ার কোনো অপচেষ্টা হয়, তবে তা চন্দ্রগঞ্জবাসীর মনে গভীর ও স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ উপজেলার সদর দপ্তর জ্যামিতিক হিসাব-নিকাশে একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নয়। মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রশাসনিক উপযোগিতা এবং নাগরিক সুবিধার সহজলভ্যতা বিবেচনা করেই সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়। পার্শ্ববর্তী তিন জেলার মানচিত্র ও উপজেলাগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলেও এই বাস্তবতার সত্যতা মেলে। ফলে চন্দ্রগঞ্জের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলায় রূপান্তর করার পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলের সম্মানিত ও গুণী ব্যক্তিত্বদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, রক্তঘাম ও অক্লান্ত পরিশ্রম। চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসলই আজকের এই কাঙ্ক্ষিত উপজেলা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যার আবেদনের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে, তিনি সমগ্র জেলায় অত্যন্ত সুপরিচিত এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেরই একজন স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের এই ত্যাগ ও আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু যে ইউনিয়ন, তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও সদর দপ্তর চিন্তা করা চরম অনভিপ্রেত।
যে কারণে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই সদর দপ্তর যৌক্তিক:
ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব: চন্দ্রগঞ্জ অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
যোগাযোগের উপযোগিতা: আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন: আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ার সূতিকাগার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন হওয়ায়, এখানেই সদর দপ্তর হওয়া আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবি।
চন্দ্রগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, “আজকে কোন বিবেচনায় বা স্বার্থে উপজেলা সদর দপ্তর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাইরে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে—তা আমাদের বোধগম্য নয়। যদি এর কোনো সদুত্তর প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট মহল না দিতে পারে, তবে তা এই অঞ্চলের মানুষের আবেগে বড় আঘাত হানবে।”
বিকল্প কোনো স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে তা কেবল প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়াবে না, বরং চন্দ্রগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অধিকার হরণ করার শামিল হবে।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষার্থে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা সমীচীন। স্থানীয় জনগণের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কোনো মহলের প্ররোচনায় না পড়ে, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উপযোগিতা বিবেচনা করে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নেই স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।


















