সংবাদ শিরোনামঃ
সুবর্ণচর মাদ্রাসার চাল ক্রয় নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে জামায়াতের নিন্দা ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করলো স্ত্রী, এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নৃশংস পাঁচ খুনের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা হওয়ায় কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হওয়ায় প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাজার প্রাঙ্গনে বিজয় মিছিল পুরাতন থানা ভবনে উপজেলা ভবনের কার্যক্রম শুরুর দাবি চন্দ্রগঞ্জবাসীর।।  নিখোঁজ মাদরাসা শিক্ষকের সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি স্ত্রীর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে সেলিম (৫০)আটক

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
216

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
216

ছাত্রদের হেয়ার স্টাইলে নতুন নিয়ম, না মানলে রয়েছে সাজা

মোঃ ফজলে এলাহী : নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জারি করা এক নোটিশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মডেলে চুল না কাটলে শিক্ষার্থীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

​গত ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ​আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী চুল ছেঁটে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ​একই সাথে হাত ও পায়ের নখ নিয়মিত কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

​নোটিশের সাথে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা চুলের কাটিংয়ের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণত ‘আর্মি কাট’ হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে দুই ধরণের মত দেখা দিয়েছে। ​একদল এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে এবং শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে অন্যপক্ষ মনে করছেন, চুলের স্টাইল দিয়ে শিক্ষার্থীর মেধা বা আচরণ বিচার করা অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “শৃঙ্খলা প্রয়োজন, কিন্তু শাস্তির ভয় দেখিয়ে চুল কাটানো শিক্ষার্থীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন জানান, বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষার্থী অদ্ভুত সব হেয়ার স্টাইল করে বিদ্যালয়ে আসে, যা শিক্ষার পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন,​”শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের আচরণগত উন্নয়নের একটি অংশ।”

​সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে এবং আচরণগত উন্নতিতে এ ধরনের নির্দেশনা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।