সংবাদ শিরোনামঃ
সাংবাদিকের ওপর হামলা মামলায় ৩নং আসামির জামিন নামঞ্জুর,কারাগারে প্রেরণ মান্দারীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু, দাফনের  আগে স্বামী উধাও, স্বজনদের দাবী এটি হ/ত্যা  চন্দ্রগঞ্জে সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন, অভিযুক্ত আটক মা ও ভাতিজিকে জবাই করে হত্যা, যুবক আটক পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার স্বজনের আহাজারিতে আকাশ ভারি! বিএনপি নেতার গোয়াল ঘরে চোরাই গরু দল থেকে শোকজ ৯নং কুশাখালীর ১২ গ্রামে খেলার মাঠের দাবি চন্দ্রগঞ্জে একমাস ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের পদশূন্য, জনদুর্ভোগ চরমে স্টারলাইন বাসের বেপরোয়া গতি ও গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে, শিশু পড়ে যাওয়ার অভিযোগ, চালকের আচরণে ক্ষুব্ধ যাত্রীগন

চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রসাশনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ।।। দুর্ভোগ জনসাধারণের

মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা, সহ- বার্তা সম্পাদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
374

চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রসাশনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ।  দুর্ভোগ জনসাধারণের

 

মোঃ হাবিবুর রহমান, সহ-বার্তা সম্পাদক

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১২নং চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে নাগরিক সেবা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও সরকারি ভাতাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের মতো চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদেরও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বহিষ্কার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু চরশাহী ইউনিয়নে প্রশাসকের উদাসীনতা ও অনুপস্থিতির কারণে পুরো সেবা ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসকের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি তা মানছেন না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী দিনের পর দিন পরিষদ কার্যালয়ে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। জরুরি কাগজপত্রের জন্য এসে অনেককেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

এদিকে পরিষদের সচিব হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি চরশাহী ইউনিয়নের পাশাপাশি অন্য আরেকটি ইউনিয়নেও সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই দ্বৈত দায়িত্বের অজুহাতে তিনি প্রায়ই এই পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন, যা প্রশাসনিক স্থবিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জাকির হোসেন বলেন,”এটি আমার নিজস্ব বিভাগীয় মূল দায়িত্বের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত দায়িত্ব। চলতি মাসে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি থাকার কারণে পরিষদে নিয়মিত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিজিটাল সেন্টার ও অফিসের কর্মচারীদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না।” তবে প্রশাসকের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

 

চরশাহী ইউনিয়নের এই তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসনে এখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল প্রশাসক ও একজন পূর্ণাঙ্গ সক্রিয় সচিব নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সাথে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রসাশনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ।।। দুর্ভোগ জনসাধারণের

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
374

চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রসাশনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ।  দুর্ভোগ জনসাধারণের

 

মোঃ হাবিবুর রহমান, সহ-বার্তা সম্পাদক

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১২নং চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে নাগরিক সেবা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও সরকারি ভাতাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের মতো চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদেরও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বহিষ্কার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু চরশাহী ইউনিয়নে প্রশাসকের উদাসীনতা ও অনুপস্থিতির কারণে পুরো সেবা ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসকের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি তা মানছেন না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী দিনের পর দিন পরিষদ কার্যালয়ে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। জরুরি কাগজপত্রের জন্য এসে অনেককেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

 

এদিকে পরিষদের সচিব হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধেও কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি চরশাহী ইউনিয়নের পাশাপাশি অন্য আরেকটি ইউনিয়নেও সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই দ্বৈত দায়িত্বের অজুহাতে তিনি প্রায়ই এই পরিষদে অনুপস্থিত থাকেন, যা প্রশাসনিক স্থবিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জাকির হোসেন বলেন,”এটি আমার নিজস্ব বিভাগীয় মূল দায়িত্বের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত দায়িত্ব। চলতি মাসে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি থাকার কারণে পরিষদে নিয়মিত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিজিটাল সেন্টার ও অফিসের কর্মচারীদের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না।” তবে প্রশাসকের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

 

চরশাহী ইউনিয়নের এই তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসনে এখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীল প্রশাসক ও একজন পূর্ণাঙ্গ সক্রিয় সচিব নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সাথে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।